সোনালি চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: ছত্তিশগড়ের ঘরের মাঠে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধেই বুক চিতিয়ে জয় বাংলার।প্রথমবারেই সোনা নিয়ে ঘরে ফিরল বাংলার ছেলেরা। খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসের ফাইনালে শুক্রবরা সকালে ছত্রিশগড়ের রায়পুর কোটায় স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে ছত্তিশগড়কে ১-০ ফলাফলে পরাজিত করে বাংলা। প্রথমার্ধের অন্তিম পর্যায়ে পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন চাকু মান্ডি। ফলে কয়েক মাস আগে সন্তোষ ট্রফির ব্যর্থতার ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ পড়ল তা বলা যেতেই পারে।

কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্যের হাত ধরে ধারাবাহিক ভাবে খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসে নজর কেড়ে চলেছিল বাংলা। ট্রফি ঘরে তোলার শেষ দিনের লড়াইয়ের শুরুতেই ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে পেনাল্টি পায় বাংলা। তবে প্রথম সুবর্ণ সুযোগ থেকে গোল না আসায় ভাগ্য পরিহাস করবে কিনা তা নিয়ে চিন্তা দানা বেঁধেছিল। তবে বাংলার ছেলেরা দক্ষতার সঙ্গে রক্ষন বিভাগকে সামলানোর পাশাপাশি গোলের মুখ খোলার জন্য করে গিয়েছে একেরপর এক লড়াই। প্রতিপক্ষ ছত্তিশগড়ের খেলা এদিন জানান দিচ্ছিল অঘটন ঘটলে অবশ্যই তা শ্রোতের বিপরীতেই হবে!

শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের পরিহাস নয়, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও পেনাল্টি পায় বাংলা, চাকু মান্ডি ওরফে সুমনের অনবদ্য পায়ের জাদুতে বল গোল পোস্টের ডান কর্নার দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। ট্রফি ঘরে আসার স্বপ্ন তখন হয়ে উঠেছিল আরও জোড়ালো। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময় ধরেই ভালো মানের ফুটবল খেলে যেতে দেখা গিয়েছিল বাংলাকে। ডাগআউট থেকে কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্যের শেষ মুহূর্তের আদেশগুলোও মেনে চলছিলেন ফুটবলাররা। বেশকিছু সুযোগ এলেও গোলের ব্যবধানে আর এগিয়ে যেতে পারেনি বাংলা। তবে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে রক্ষনবিভাগকে ঠিক কতোটা শক্তিশালী থাকতে হয় সেই প্রমাণ এদিন দিয়ে গিয়েছে বাংলার দল। শেষ পর্যন্ত আর কোনও গোল আসেনি। বরং ম্যাচের একদম শেষ লগ্নে লাল কার্ড দেখেন ছড়িশগড়ের এক ফুটবলার। ১ গোলেই ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবেগে-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা বাংলার দল থেকে কোচ ও অফিসিয়ালরা।
দলের এই সাফল্য এর জন্য ফুটবলারদের কৃতিত্ব দিচ্ছেন বাংলার কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। খেলা শেষে তিনি জানান, এই সাফল্য পুরোপুরি ছেলেদের পরিশ্রমের ফল। এই জয় বাংলার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব আবার প্রমাণ করল। তিনি তাঁকে সব রকম সহায়তা করার জন্য আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দোপাধ্যায় ও সচিব অনির্বাণ দত্তকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুরুচি সংঘের কর্ণধার স্বরূপ বিশ্বাসকেও। বাংলার অধিনায়ক অমিত টুডু দলের এই সাফল্যে খুশি। তিনি দলের সাফল্যের নেপথ্যে কোচের অবদানের কথা জানান। গোটা দলকে কোচ এক সূত্রে বাঁধতে পেরেছেন বলে তাঁর মত। যাঁর গোলে এদিন বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেই চাকু মান্ডি দলকে সাফল্য এনে দিতে পেরে খুশি।
মাস দুয়েক আগে সন্তোষ ট্রফিতে তিনি পেনাল্টি মিস করেছিলেন। সে জন্য একটা আক্ষেপ ছিল। এদিন জয়ের গোল সেই আক্ষেপ মুছিয়ে দিয়েছে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রথমবার চালু হওয়া এই খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসে ফুটবলে বাংলা লিগ ও নক আউট দুই পর্বেই অপরাজিত থেকে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্বর্ণ পদক জিতল। বাংলার দলকে শুভেচ্ছা বার্তা জানান সচিব অনির্বাণ দত্ত। তিনি বলেন, দলকে অবশ্যই যথাযোগ্য সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হবে।
আগামিকাল আইএসএলে জামশেদপুরের মাটিতে জয়ে ফেরাই প্রধান লক্ষ্য লোবেরার
