সৌরভ রায় ও অঙ্কিত ঘোষ, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আইএসএলে ৭ ম্যাচ খেলে ৪ ম্যাচে জয়, ২ ম্যাচে ড্র এবং ১ ম্যাচ হেরে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে এদিন ঘরের মাঠে যুবভারতীতে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নামে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস। পঞ্জাবের একঝাঁক তরুন ফুটবলারদের বিরুদ্ধে এদিনও সার্জিও লোবেরা আগের ম্যাচের মতোই দিমি-কামিংসকে রিজার্ভ বেঞ্চে রেখে, ম্যাকলারেন-লিস্টন-মনবীরকে সামনে রেখে দল সাজান। আপুইয়ার জায়গায় প্রথম একাদশে আসেন অভিষেক সিং। আর এদিন খেলার শুরু থেকেই মোহনবাগানের পোস্ট লক্ষ্য করে ঘন-ঘন আক্রমণে উঠতে থাকে পঞ্জাব। আর সেই সুযোগ কাজেও লাগিয়েই ফেলে ১২ মিনিটে। ১২ মিনিটে পঞ্জাব এফসির মহম্মদ উবেশের বাড়ানো বলে, গোল করে পঞ্জাবকে এগিয়ে দেন স্পেনের তারকা মিডফিল্ডার রামিরেজ। ১-০ ব্যবধানে শুরুতেই এগিয়ে যায় পঞ্জাব। এই গোলের পর পঞ্জাবের ফুটবলার রামিরেজকে দেখা যায় দিমির স্টাইলে স্টেনগান সেলিব্রেশন করতে।

এরপরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মোহনবাগানের ডিফেন্ডার অ্যালবার্তো রডরিগেজ। তার জায়গায় ১৭ মিনিটে মাঠে নামেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। অন্যদিকে মনবীরের জায়গায় মাঠে নামানো হয় মেহেতাব সিংকে। তবে শুরুতেই মোহনবাগানের জোড়া পরিবর্তনের পরেও দেখা যায়, বেশ কয়েকটা ভালো শট নিয়ে মোহনবাগানের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন পঞ্জাব এফসির ফুটবলাররা।

তবে ২৯ মিনিটে শুভাশিসের বাড়ানো বলে রবসনের অ্যাসিস্টে, পঞ্জাব এফসির ফুটবলারকে আটকে দিয়ে দুর্দান্ত গোল করে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান জেমি ম্যাকলারেন। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-১। ফলে মহামেডান ম্যাচের পর, তিন ম্যাচ পরে গোলে ফিরলেন ম্যাকা। এরপর ৩৯ মিনিটে দেখা যায় একটি দূরপাল্লার শটে গোলের প্রচেষ্টা করেন রবসন। ৪০ মিনিটে পঞ্জাবের ফুটবলার সুহেলকে ফাউল করায়, হলুদ কার্ড দেখেন অধিনায়ক শুভাসিস। ৪৩ মিনিটে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন পঞ্জাব এফসির গোতদাতা রামিরেজ। তবে খেলার প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লিস্টনের কর্ণারে দিমি গোল করলেও, অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর প্রথমার্ধে আর কোনও গোল আসেনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলে।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অভিষেক সিং এর একটি শট পোস্টের গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। তবে খেলার ৬০ মিনিটে মোহনবাগানের ডিফেন্স ভেঙে ভালো গোল করে আবারও পঞ্জাব এফসিকে এগিয়ে দেন নাইজেরিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড এফিয়ং। গোল মিস করেন বিশাল কাইথ। এগিয়ে যায় পঞ্জাব। ৬৯ মিনিটে রবসনের জায়গায় মাঠে নামেন কামিংস এবং দীপক টাংরির জায়গায় নামানো হয় সাহালকে। আর মাঠে নেমেই ৭৩ মিনিটে দূরপাল্লার শটে বিশ্বমানের অসাধারণ গোল উপহার দিয়ে মোহনবাগানকে আবারও সমতায় ফেরালেন সাহাল আব্দুল সামাদ। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ২-২।

৭৫ মিনিটে শুভাশিসের জায়গায় নামানো হয় অময় রানাডেকে। ৮৭ মিনিটে পোস্টের সামনে বল পেয়েও সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন জেসন কামিংস। অপরদিকে দেখা যায় জামশেদপুরও বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করে। ৯১ মিনিটে কর্ণার থেকে সরাসরি শটে গোল করে মোহনবাগানকে আবারও এগিয়ে দেন জেসন কামিংস। ফলে খেলার ফলাফল হয়ে যায় ৩-২। তবে এরপর ম্যাচে আর কোনও গোল আসেনি। ফলে ৩-২ গোলে ঘরের মাঠে পঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে আবারও জয়ে ফিরল মোহনবাগান। আর এই জয়ের ফলে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসল সবুজ-মেরুন বাহিনী।
