সৌরভ রায়, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিনেই ঘরের মাঠে যুবভারতীতে সুনীল ছেত্রীর ব্যাঙ্গালুরু এফসির মুখোমুখি হয় ইস্টবেঙ্গল এফসি। চলতি আইএসএলে শেষ দুই ম্যাচে মহামেডান স্পোর্টিং ও চেন্নাইয়ান এফসির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতে এদিন খেলতে নামে লাল-হলুদ বাহিনী। অন্যদিকে ব্যাঙ্গালুরু এফসি তারা শেষ ম্যাচে ২-১ গোলে কেরালা ব্ল্যাস্টারের বিরুদ্ধে হেরে এদিন যুবভারতীতে অ্যাওয়ে ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হয়। পয়েন্ট টেবিলে ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গল চতুর্থ স্থানে এবং ব্যাঙ্গালুরু ৮ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে এদিন শুরু করে। ফলে ভালো লড়াইয়ের অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবল প্রেমীরা। এদিন ইস্টবেঙ্গল তিন ফরোয়ার্ড পিভি বিষ্ণু, ইউসুফ হিজ্জেজারি ও এডমুন্ডকে নিয়ে প্রথম একাদশ সাজায়। অন্যদিকে ব্যাঙ্গালুরু কোচ রায়ান উইলিয়ামস ও সুনীল ছেত্রী দুই ফরোয়ার্ডে প্রথম একাদশ সাজান। চোটের কারণে এদিন ইস্টবেঙ্গল দলে ছিলেন না মহম্মদ রশিদ। উল্লেখ্য, এদিন প্রয়াত অভিনেতা ইস্টবেঙ্গল সমর্থক রাহুল অরুনোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিফো নামিয়ে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা।

খেলার ১০ মিনিটে এডমুন্ডকে ফাউল করেন নিখিল পূজারি। ইস্টবেঙ্গল শট নিলেও গোল আসেনি। তবে খেলার স্রোতের বিপরীতে এরপর ১২ মিনিটে দুর্দান্ত ডান পায়ের দূরপাল্লার শটে গোল করে ব্যাঙ্গালুরু এফসিকে এগিয়ে দেন প্রাক্তন মোহনবাগানি আশিক কুরুনিয়ান। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্যাঙ্গালুরু। ১৫ মিনিটে পোস্টের সামনে থাকলেও সুযোগ নষ্ট করেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। এরপর ১৬ মিনিটে আকিশ কুরুনিয়ানকে ফাইল করেন কেবিল সিব্বিলে। ফলে কেভিনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ১৮ মিনিটে ছেত্রীকে ফাইল করেন শৌভিক চক্রবর্তী। ফলে ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে হলুদ কার্ড দেখেন শৌভিক। ২০ মিনিটে একটি গোলের সুযোগ তৈরি করে ব্যাঙ্গালুরু যদিও গোল রুখে দেন প্রভসুখন। একপর ২১ মিনিটে মিগুয়েল একটি সুযোগ নষ্ট করেন। তবে সঙ্গে-সঙ্গেই ২১ মিনিটে মিগুয়েলের কর্ণারে ব্যাকভলিতে দুর্দান্ত গোল উপহার দিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরান আনোয়ান আলি। ফলাফল হয়ে যায় ১-১।

তবে এরপরই ইস্টবেঙ্গল ও ব্যাঙ্গালুরু এফসি দুই দলের ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ব্যাঙ্গালুরুর ফুটবলারদের দিকে তেড়ে যান মিগুয়েল। ২৫ মিনিটে তার জেরে মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে বার করে দেন রেফারি। আর এরপর ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ এবং সহকারি কোচও রেফারির সঙ্গে বচসায় জড়ান। তার জেরে সহকারী কোচকেও হলুদ কার্ড দেখানো হয়। তবে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় মিগুয়েল বলটিকে ব্যাঙ্গালুরুর বেঞ্চের দিকে শট মারেন। তার জেরে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দলের কোচ ও ফুটবলাররা ফের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বেশ কিছু সময় ম্যাচ তার জেরে বিঘ্নিত হয়।

৩৬ মিনিটে কেভিনকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন ব্যাঙ্গালুরুর রোশন সিং। তবে খেলার ৩৯ মিনিটে রায়ানের অ্যাসিস্টে আবারও গোল করে ব্যাঙ্গালুরু এফসিকে সমতায় ফেরান সুরেশ সিং। অতিরিক্ত সময়ে সাউল ক্রেসপোকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন রায়ান। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ গোলে।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ মিনিটে বিপিন সিং এর শট রুখে দেন গুরপ্রীত সিং সান্ধু। ৫৪ মিনিটে সাউল ফাউল করেন সুনীল ছেত্রীকে। তবে ব্যাঙ্গালুরু গোল করতে পারেনি। এরপরই ৫৬ মিনিটে সাউল শট প্রথমে রুখে দেন ব্যাঙ্গালুরুর এক ফুটবলার, তারপরই ফের ফিরে আসা বলে আবারও দুর্দান্ত শটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরান সাউল ক্রেসপো। ফলাফল হয়ে যায় ২-২। ফলে দশ জনের ইস্টবেঙ্গলের কাছেও গোল খেয়ে আবারও একটু চাপে পড়ে যায় ব্যাঙ্গালুরু এফসি।

৬৭ একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করে ইস্টবেঙ্গল। মাঠে নামেন ইউসুফ হিজ্জেজারির জায়গায় নামেন অ্যান্টন সোজবার্গ, আনোয়ারের জায়গায় রাকিপ এবং এডমুন্ডের জায়গায় নন্দাকুমার শেখর। চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন আনোয়ার আলি। এরপর ৭১ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের শট প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন প্রভসুখন গিল। বল সরাসরি চলে যায় পোস্টের ভিতরে। ফলে ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় ব্যাঙ্গালুরু এফসি। ৯০ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন ইস্টবেঙ্গলের। শৌভিকের জায়গায় মাঠে আসেন ডেভিড ও জিকসনের জায়গায় জয় গুপ্তা। তবে খেলার ৯৬ মিনিটে বিপিনের বাড়ানো বলে, ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে প্রথম গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে আবারও সমতায় ফেরালেন অ্যান্টন সোজবার্গ। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ৩-৩। ৩-৩ গোলে ড্র হল ম্যাচ। ৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। ব্যাঙ্গালুরু ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রইল চার নম্বরে।
