ময়দান আপডেট: এবারের আইপিএলে প্রথম কবে জয়ের স্বাদ পাবে কলকাতা নাইট রাইডার্স? এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন ভারতীয় কোটিপতি লিগে। একের পর এক ম্যাচ হারতে-হারতে যেন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে নাইটদের। পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষেই থেকে যাচ্ছে নাইট বাহিনী। গত মরসুম থেকেই হতাশ কেকেআর সমর্থকরা। এবারের মরসুমেও চূড়ান্ত ব্যর্থ দল। হোম হোক বা অ্যাওয়ে এখনও পর্যন্ত আইপিএলে এবারে জয়ের খাতা খুলতে পারেনি নাইট রাইডার্স। ৬ ম্যাচ খেলে ৫ ম্যাচেই হার কেকেআরের। কেবলমাত্র পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ইডেনে বৃষ্টির সহযোগিতায় ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় ১ পয়েন্ট ভাগ্যে জুটেছিল কেকেআরের। বাদবাকি সবকটি ম্যাচেই হেরে পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষে শাহরুখ খানের দল।
শুক্রবার আমেদাবাদে গুজরাত টাইটান্সের ঘরের মাঠেও গুজরাতের কাছে হার নাইটদের। এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নাইটরা। আর প্রথম ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সিরাজের বলে ১ বলে ০ তেই আউট হয়ে ফিরে যান কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। আর ৪ বলে ৮ রানে অংকৃশ রঘুবংশিকে ফিরিয়ে দেন রাবাডা। দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যায় নাইট রাইডার্স। তবে এরপর টিম সাইফার্ডকে ১৪ বলে ১৯ রানে আউট করে দেন রাবাডা। কিন্তু ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় পর নাইটদের খেলায় কামব্যাক করান অস্ট্রেলিয়ার তারকা বিদেশী ক্রিকেটার ক্যামরন গ্রিন। গত কয়েকটা ম্যাচে গ্রিন রান না পেলেও, এদিন কিছুটা সমালোচনার জবাব দিয়ে ভালো ব্যাটিং উপহার দেন তিনি। গ্রিন করেন ৫৫ বলে ৭৯ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭ টা চার ও ৪ টে ছয়। পাশাপাশি এদিন ২০ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন রভম্যান পাওয়েল। ২টি চার ও ২টি ছয় মারেন তিনি। ৮ বলে ১৭ রান করেন রমনদীপ। ২টি চার ও একটি ছয় মারতে দেখা যায় তাঁকে। ২০ ওভারে ১৮০ রানে অলআউট হয়ে যায় কেকেআর।

গুজরাতের হয়ে এদিন ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন কাগিসো রাবাডা। অন্যদিকে ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন সিরাজ। অশোক শর্মা নেন ২ উইকেট। রশিদ খান ১ উইকেট।

আর জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নাইটদের সামনে কার্যত ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক শুভমান গিল ও সাঁই সুদর্শন। যদিও সাঁই সুদর্শনকে ১৬ বলে ২২ রানে আউট করে ফিরিয়ে দেন নারিন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ২ টি ছয়। তবে অন্যদিকে দুর্দান্ত মেজাজে দলের স্কোর বোর্ডে রান বাড়াতে থাকেন শুভমান গিল। তাঁর সহযোগিতা করেন জস বাটলার। এদিন ৫০ বলে ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন শুভমান। তিনি ৮ টি চার ও ৪ টি ছয় মারেন। ফলে শুভমান যখন ব্যাট করছিল, একটা সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ হয়তো ১৫ ওভারেই জিতে নেব গুজরাত টাইটান্স। কিন্তু শুভমান ফিরে যাওয়ার পর কিছুটা চাপে পড়ে গুজরাত। কারণ অপরদিকে ১৫ বলে ২৫ রানে আউট হয়ে যান বাটলারও। ১৩ রানে আউট হয়ে যান ওয়াশিংটন সুন্দর। ফলে ম্যাচ গড়ায় লাস্ট ওভার পর্যন্ত। আর শেষ ওভারে কোনও বোলার না থাকায় রমনদীপকে বলে পাঠান রাহানে। আর রমনদীপ বল করতে এসেই গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে দেন ১৬ বলে ১৯ রানে। তবে ১৯ ওভার ৪ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাত।

এদিন গুজরাতের হয়ে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন বরুন চক্রবর্তী। ১ টি করে উইকেট নেন বৈভব অরোরা, সুনীল নারিন ও রমনদীপ সিং। আর এই ম্যাচে জয়ের সুবাদে পর-পর তিন ম্যাচে জিতে পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে উঠে আসল গুজরাত টাইটান্স। অন্যদিকে ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচ হেরে সবার শেষে নাইটরা। উল্লেখ্য কেকেআর আগামী রবিবার ঘরের মাঠে ইডেনে মুখোমুখি হবে তাদের পরবর্তী ম্যাচে শক্তিশালী রাজস্থান রয়্যালসের। ফলে যথেষ্ট চাপে নাইট বাহিনী। আর এদিন ম্যাচের সেরা হন গুজরাতের অধিনায়ক শুভমান গিল। গুজরাত টাইটান্স তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে নিজেদের ঘরের মাঠে আমেদাবাদেই আগামী ২০ তারিখ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে। মুম্বই শেষ ম্যাচে বিরাটের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর কাছে পরাজিত হয়েছে। ফলে পর-পর তিন ম্যাচে জয় পাওয়া গুজরাতের হোমে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা যে মোটেও সহজ হবে না তা বেশ জানেন রোহিত শর্মারা। আর নাইটদের বিরুদ্ধে এই জয় অনেকটাই মুম্বই ম্যাচের আগে মনোবল বৃদ্ধি করল গুজরাত টাইটান্সের। সব মিলিয়ে এবারের আইপিএল জয়ের দাবিদার যে একাধিক দল তা বলা যেতেই পারে।
