সৌরভ রায় ও অঙ্কিত ঘোষ, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: মঙ্গলবার আইএসএলে যুবভারতীতে ঘরের মাঠে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে খেলতে নামে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এই ম্যাচের আগে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে খেলতে নামে সবুজ-মেরুন বাহিনী। অন্যদিকে ইন্টার কাশীর কোচ হাবাস এই ম্যাচের আগে কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে মোহনবাগান ম্যাচে তাদের কোচের ভূমিকায় বেঞ্চে ছিলেন অভিজিৎ মণ্ডল। পাশাপাশি ইন্টার কাশীর দলের ফুটবলারদের বেতন সমস্যা রয়েছে, ফলে মানসিক ভাবেও অনেকটাই চাপে তাদের ফুটবলাররা। যদিও এই ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা বলেন, হাবাসের সঙ্গে ডুয়েলকে মিস করব। আর এদিন মোহনবাগানের প্রথম একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন লোবেরা। ম্যাকলারেনকে বেঞ্চে রেখে, দিমিত্রি পেত্রাতোস ও জেসন কামিংসকে প্রথম একাদশে রেখে আক্রমণ ভাগ সাজানো হয়। পাশাপাশি দলে বেঞ্চে রাখা হয় লিস্টনকেও, তার বদলে মনবীরকে দিয়ে শুরু করানো হয়। রডরিগেজের তিনটি কার্ড থাকায় এদিন তাঁকে বেঞ্চে রেখে, প্রথম একাদশে ডিফেন্সে আনা হয়েছিল মেহেতাব সিংকে। উল্লেখ্য কিছুদিন আগে প্রয়াত মোহনবাগানের অন্যতম বড় সমর্থক শান্তি দিদাকে সম্মান জানিয়ে মোহনবাগান গ্যালারিতে বিশেষ টিফো নামান হয় এদিন।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ৮ মিনিটে পোস্টের সামনে থেকে একটা সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন সাহাল আব্দুল সামাদ। এরপর ১০ মিনিটে ইন্টার কাশীর হয়ে একটা সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মহম্মদ আশিফ। তবে এরপর প্রথমার্ধে বেশ কিছুটা সময় মোহনবাগান ফুটবলারদের অনেকটাই ছন্নছাড়া দেখায়। সেভাবে কোনও ভালো আক্রমণ দেখা গেল না তাদের খেলায়। ৩৫ মিনিটে ইন্টার কাশীর হয়ে রোহিত দানু গোলের প্রচেষ্টা করে একটা ভালো শট নেন, তবে প্রতিহত করে দেন সাহাল আব্দুল সামাদ। ৪৩ মিনিটে ইন্টার কাশীর স্প্যানিস ফুটবলার অ্যালফ্রেড একটা ভালো প্রচেষ্টা করেন, যদিও কার্যকরী হয়নি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে জেসন কামিংস একটা ভালো আক্রমণের প্রচেষ্টা করলেও, অফসাইডের কারণে কোনও কাজে লাগেনি তাঁর শট। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া পরিবর্তন মোহনবাগানের। কামিন্সের জায়গায় আসেন ম্যাকলারেন এবং রবসনের জায়গায় আসেন লিস্টন কোলাসো। ৫১ মিনিটে অভিষেকের বাড়ানো বলে দিমি একটা শট নেন, যদিও রুখে দেন ইন্টার কাশীর গোলরক্ষক। ৫৭ মিনিটে অময় রানাডের জায়গায় মাঠে নামেন শুভাশিস বোস। ৫৯ মিনিটে কাশীর মহম্মদ আশিফকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখানো হয় সাহালকে। ৬৪ মিনিটে দিমিত্রি পেত্রাতোস একটা গোলের প্রচেষ্টা করেন, যদিও বারপোস্টের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে যায়। ৭১ মিনিটে শুভাশিসের দূরপাল্লার শটে দিমি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর ৭২ মিনিটে আবারও একটি সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর। ৭৫ মিনিটে ইন্টার কাশীর জায়েশ রানে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ৭৮ মিনিটে লিস্টনের সঙ্গে বল ট্যাকেল করতে গিয়ে চোট পান ইন্টার কাশীর রোহিত দানু। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান কিছুটা আক্রমণ বাড়িয়ে গোল তোলার মরিয়া প্রয়াস চালালেও, ইন্টার কাশীর দল অতিরিক্ত লো-ব্লকে ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে দেখায় গোলমুখ খুলতে পারছিলেন না সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। ৮৫ মিনিটে দিমির বাড়ানো বলে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন জেমি ম্যাকলারেন। এরপরই দেখা যায় টম অলড্রেড হেডে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ৮৭ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন হয় মোহনবাগানের। মনবীরের জায়গায় মাঠে নামেন থাপা এবং দিমির জায়গায় মাঠে আসেন কিয়ান নাসিরি।

৭ মিনিট ম্যাচে অতিরিক্ত সময় দেন রেফারি। ৯২ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের সামনে শুভাশিসের সঙ্গে সার্জিও পার্দোর ট্যাকেল হয়, মাটিতে পড়ে যান শুভাশিস। পেনাল্টির দাবি জানান শুভাশিস, তবে শুভাশিস ফাউল করায় তাঁকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ম্যাচের একদম শেষের দিকে একটা ভালো গোলের জন্য শট নেন লিস্টন কোলাসো। তবে গোল আসেনি, পোস্টের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালালেও, আর কোনও গোল আসেনি। ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই। তবে ইন্টার কাশীর মতো সহজ প্রতিপক্ষের কাছে মোহনবাগান ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছড়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সমর্থকরা। ২ পয়েন্ট নষ্ট করায়, ১১ ম্যাচে মোহনবাগানেও পয়েন্ট দাঁড়াল ২২। ফলে ডার্বির আগে গোল পার্থক্যের বিচারে শীর্ষেই রইল ইস্টবেঙ্গল। ফলে ডার্বির আগে মোহনবাগানের চাপ যে অনেকটাই বাড়ল তা বলা যেতেই পারে। পাশাপাশি কোচের একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত এবং দলের খারাপ ফুটবল দেখে ডার্বির আগে চিন্তায় ম্যানেজমেন্ট থেকে সমর্থক সকলেই। অন্যদিকে মোহনবাগান ডার্বির আগে পয়েন্ট নষ্ট করায় যথেষ্ট খুশি লাল-হলুদ সমর্থকরা। তারা অতিরিক্ত অক্সিজেন পেল ১৭ তারিখ ম্যাচের আগে।
ইস্টবেঙ্গলের ঘরের মাঠে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার পঞ্জাবের, ১ পয়েন্ট নিয়েই খুশি থাকতে হল ইস্টবেঙ্গলকে
