ময়দান আপডেট: আড়াই বছর পর ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামলেন নেইমার জুনিয়র। নেইমার দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরছেন এই খবরটা জানতে পেরেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল আকাশছোঁয়া। তবে বুধবার রাতে নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচকে আরও রঙিন এবং আকর্ষণীয় করে ব্রাজিলকে নকআউট পর্বে ওঠার রাস্তা স্পষ্ট করে দিলেন ইয়ং স্টার ভিনিসিয়াস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধেও দলের হয়ে করলেন জোড়া গোল। ব্রাজিলের পঞ্চম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচেই গোল করলেন ভিনিসিয়াস। ১৯৭০ সালে জাইরজিনহো, ১৯৯৪ সালে রোমারিয়ো এবং ২০০২ সালে রোনাল্ডো এবং রিভাল্ডোর পর এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। আর এদিনও ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হলেন ভিনিসিয়াস। আর এদিন ভিনিসিয়াসের জোড়া গোল এবং কুনহার একটি গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে জায়গা করে নিল ব্রাজিল।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই স্কটল্যান্ড জমাট ডিফেন্স তৈরি করেছিল। তারা সেভাবে আক্রমণে ওঠার কোন চেষ্টাই করছিল ন। কিন্তু তাদের দুর্বলতা সঠিকভাবেই খুঁজে নিলেন সাম্বা ফুটবলাররা। ৭ মিনিটে স্কট ম্যাককেনা নিজেদের বক্সেই ভুল করে বসলেন। রায়ান বল কেড়ে নিয়ে দেন ভিনিসিয়াসকে। অরক্ষিত অবস্থায় বল পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। ছয় গজের মধ্যে এ বারও অরক্ষিত অবস্থায় বল পান তিনি। হেড দিয়ে গোল করেন বিনা বাধায়। ফলে খেলার প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে ম্যাচের দ্বিতিয়ারদের কিছুটা আগ্রাসী মানসিকতা দেখা যায় স্কটিশদের মধ্যে। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ৫০ মিনিটের মাথায় দিনের অন্যতম সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ভিনিসিয়াস। একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন কুনহাও। তবে ৬০ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোলটি তাঁরই। বক্সের বাইরে বল ধরে স্কটল্যান্ডের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল সাজিয়ে দেন ব্রুনো গিমারায়েস। এবার আর ভুল করেননি কুনহা। ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেই জিতে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। উল্লেখ্য নেইমারকে প্রথম একাদশে রাখেননি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। ৭৬ মিনিটে তাঁকে মাঠে নামান কোচ। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন তিনি। আর তিনি মাঠে নামতেই সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন নেইমারকে খুব বেশি আকর্ষণীয় না লাগলেও, নকআউট পর্বে তার ভূমিকা যে থাকবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা বলা যেতেই পারে।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গ্রুপ থেকেই একই রাতে নকআউটে জায়গা করে নিল মরক্কো। ৪-২ গোলে হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ রানার্স হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে গেল গতবারের সেমিফাইনালিস্টরা। তিনটি করে ম্যাচ খেলার পর ব্রাজিল এবং মরক্কো দু’দলেরই পয়েন্ট ৭। মুখোমুখি লড়াই শেষ হয়েছিল ১-১ ফলে। গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হল পাঁচবারের বিশ্বজয়ী ব্রাজিল।
৫-০ গোলে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত কামব্যাক পর্তুগালের, জোড়া গোল সিআর সেভেনের
