প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: ভারতীয় ফুটবলের মানোন্নয়ন এবং জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর কাছে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাঠাল দেশের অন্যতম প্রধান ক্লাব মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (MBSG)। ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (OCI) বা প্রবাসী ভারতীয় খেলোয়াড়দের দেশের ফুটবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এই সুচিন্তিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের মতে, সঠিক নিয়মনীতি মেনে ওসিআই খেলোয়াড়দের খেলানো গেলে তা ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ওসিআই খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ক্লাবগুলোর জন্য সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই খেলোয়াড়দের বিদেশী নয়, বরং ঘরোয়া খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করতে হবে। ক্লাবগুলো যদি এই ছাড় পায়, তবেই তারা বিশ্বমানের প্রবাসী ভারতীয় প্রতিভাদের দলে নিতে উৎসাহিত হবে, যা সামগ্রিকভাবে লিগের মান বাড়াবে। দ্বিতীয়ত, যেকোনো ওসিআই খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকা জরুরি বলে মনে করে ক্লাবটি। উদাহরণস্বরূপ জানানো হয়েছে, ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো খেলোয়াড়কে এই নিয়মে খেলানো অর্থহীন, কারণ তাতে ভারতীয় ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী কোনো লাভ হবে না। ওসিআই খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর করা যেতে পারে। এর ফলে ওই খেলোয়াড় দুই বছরের মধ্যে ভারতীয় পাসপোর্ট পেয়ে জাতীয় দলের হয়ে আরও অন্তত তিন বছর অবদান রাখার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও দূরদর্শী পদ্ধতি হিসেবে, ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে অনূর্ধ্ব-২৬ (U26) বয়সী তরুণ ওসিআই খেলোয়াড়দের ঘরোয়া খেলোয়াড় হিসেবে সই করানোর সুবিধা দেওয়া উচিত। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য একঝাঁক তরুণ প্রতিভা তৈরি করা সম্ভব হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে গতিশীল ও কার্যকর করতে প্রতি ক্লাবে ওসিআই খেলোয়াড়ের সংখ্যার ওপর একটি নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লাব সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ জন ওসিআই খেলোয়াড়কে ঘরোয়া খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধন করার অনুমতি পেতে পারে। এবার দেখার মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের এই প্রস্তাবনা ভারতীয় ফুটবলে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। ওসিআই খেলোয়াড়দের দেশের মাটিতে খেলার সুযোগ করে দিলে একদিকে যেমন আইএসএল (ISL) সহ ঘরোয়া টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে, অন্যদিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় দলও শক্তিশালী হবে। এখন দেখার, ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা এআইএফএফ এই দূরদর্শী প্রস্তাবটিকে কীভাবে গ্রহণ করে।
