প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে এক ক্লাসিক দ্বৈরথ। আইবেরিয়ান ডার্বিতে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল এবং স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলের দুই মহাশক্তি যখন বিশ্বমঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন মাঠের লড়াই আর কৌশলের যুদ্ধ এক অন্য মাত্রা পায়। আগের ম্যাচগুলোর বাধা পেরিয়ে দুই দলই এখন কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে অবতীর্ণ। টিকিটাকার আধুনিক সংস্করণ বনাম গতিময় প্রতি-আক্রমণ—সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা থ্রিলার হতে যাচ্ছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভিজ্ঞতা এবং ব্রুনো ফার্নান্দেসের চমৎকার ফর্ম পর্তুগিজদের বড়ো শক্তি। তাদের আক্রমণভাগে যেমন বৈচিত্র্য আছে, তেমনি উইং ধরে রাফায়েল লিয়াওয়ের গতি প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে পারে। তবে স্পেনের মাঝমাঠের আধিপত্য ভাঙতে হলে পর্তুগালের রক্ষণ ও মিডফিল্ডকে আরও বেশি সুসংহত হতে হবে। অপরদিক, স্পেনের মূল শক্তি তাদের টিকিটাকা পাসিং ও বল পজিশন ধরে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা। মাঝমাঠে রদ্রি-র নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ এবং উইংয়ে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের বিধ্বংসী গতি লা রোহাদের মূল চালিকাশক্তি। প্রতিপক্ষকে বল থেকে দূরে রেখে ক্লান্ত করে গোল বের করাই তাদের মূল কৌশল। মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করা, অ্যাসিস্ট করা এবং ডেড-বল স্পেশালিস্ট হিসেবে এক্স-ফ্যাক্টর হবেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। এছাড়া স্পটলাইটে থাকবেন মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

স্পেনের উইংয়ে যার ড্রিবলিং ও নিখুঁত ক্রস যেকোনো ডিফেন্সের জন্য দুঃস্বপ্ন, সেই তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল থাকবেন স্পটলাইটে। আর মাঝমাঠের ইঞ্জিন হিসেবে থাকবেন রদ্রি।নকআউটের এই মঞ্চে সামান্যতম ভুলেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফায়সালা না হলে অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টি শুটআউটের রোমাঞ্চও দেখা যেতে পারে। চাপের মুখে যারা স্নায়ু ধরে রাখতে পারবে, তারাই বিশ্বকাপের শেষ আটের টিকিট কাটবে।
