ময়দান আপডেট: মোহনবাগানের চাপের কাছে কার্যত নথি স্বীকার করতে বাধ্য হল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। কারণ মঙ্গলবার দোলের দিনে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তথা বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে লজ্জার উপহার দেন মোহনবাগান সমর্থকদের। মোহনবাগান সমর্থকদের যুবভারতীতে খেলা দেখতে যাওয়ার রাস্তাই বন্ধ করে দেন ফেডারেশন সভাপতি। দোলের দিন সকালে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস ম্যানেজমেন্টের কাছে মেইল করে ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যাতে জানান হয়, মোহনবাগান সুপার জায়েন্টসকে কঠোর শাস্তি হিসাবে তাদের বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানা দিতে হবে এবং একইসঙ্গে মোহনবাগানের পরবর্তী হোম ম্যাচ আগামী ৬ তারিখ যুবভারতীতে উড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাচে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে খেলতে হবে ক্লাবকে। উল্লেখ্য ঘটনার সূত্রপাত কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের ম্যাচ চলাকালীন মোহনবাগান দর্শকদের মাঠে বাজি ফাটানোর অভিযোগ। যা ফেডারেশনের নিয়মের বাইরে। তার ফলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এআইএফএফ ডিসিপ্লিনারি কমিটি। পাল্টা মোহনবাগানের তরফ থেকে চিঠি পাঠানো হয় ফেডারেশনকে, যেখানে বলা হয় তারা আর্থিক জরিমানার বিষয়টি মেনে নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ দিতেও রাজি। কিন্তু মাঠে দর্শকদের খেলা দেখার অনুমতি দেওয়া হোক। তার কারণ দর্শকদের জন্যই খেলার আয়োজন, দর্শকরা দীর্ঘদিন ধরে আইএসএল বন্ধ থাকায় খেলা দেখার সুযোগ পাননি। তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার পর খেলা ফিরেছে। তাদের খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা মানে সমর্থকদের আবেগ নিয়ে খেলা। আইন মেনে চলা সমর্থকদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া।সমর্থকদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হলেও, প্রথমে তা গৃহীত হয়নি। এককথায় বলা বাহুল্য,দোলের দিনে আর্থিক জরিমানা দেওয়ার পরেও,ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে যুবভারতীতে মোহনবাগান ম্যাচে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলার নির্দেশ বহাল রাখে ফেডারেশন। যার জেরে চরম হতাশ হয়ে পড়েন মোহনবাগান সমর্থকরা।

এরপরই দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সরব হন মোহনবাগানের বিভিন্ন ফ্যান্স ক্লাবের সদস্যরা। পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি দেবাশীষ দত্ত, সচিব সঞ্জয় বসু তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন এর থেকে খেলা বন্ধ করে দেওয়া ভালো।সমর্থকদের যদি খেলা দেখার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে মোহনবাগান ক্লাবের কোন কর্মকর্তাও ম্যাচ দেখতে যাবে না। প্রয়োজন হলে মোহনবাগান ক্লাবেই জায়েন্ট স্ক্রিন লাগিয়ে সমর্থকদের খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হবে। সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেন, সমর্থকদের উচিত কালো ব্যাচ পড়ে যুবভারতীর বাইরে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হওয়া। আর এই সমালোচনার ঝড় ওঠার পরেই কার্যত চাপের মুখে পড়ে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হল ফেডারেশন। পাল্টা মোহনবাগানকে চিঠি পাঠায় ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি। তারা জানায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে, সমর্থকদের জন্য যুবভারতীতে আংশিক গ্যালারি খুলে রাখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে কত পরিমাণ দর্শকদের অনুমতি দেওয়া হবে তার নির্দিষ্ট করে না জানানো হলেও, মনে করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক মাঠে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে। ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেলেন সমর্থকরা।

উল্লেখ্য বিদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টে গ্যালারিতে সমর্থকদের বাজি ফাটানোর দৃশ্য অতি পরিচিত। কিন্তু সেখানে কোনও রকম শাস্তির কথা বলা হয় না। অথচ আইএসএলে মোহনবাগান কেরালা ম্যাচে সামান্য কিছু বাজি ফাটানোর জন্য সমর্থকদের খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেছিল ফেডারেশন। যে ঘটনা তীব্র নিন্দা করেছেন ফুটবল মহলের একাংশ। আবার অনেকেই বলছেন এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধিও থাকতে পারে কল্যাণ চৌবের।
