ময়দান আপডেট: নাইটদের বিরুদ্ধে ইডেনে টস জিতে রাজস্থানের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত খুব একটা ইতিবাচক ছিল কিনা প্রশ্ন থেকেই গেল! এদিন রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংসের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও, শেষটা মোটেও ভালো গেল না। নাইট রাইডার্সের বোলারদের সামনে শুরু থেকেই কিছুটা আক্রমণাত্মক মেজাজে রানের গতি বাড়াতে থাকেন রাজস্থানের দুই ওপেনার বেবি বস বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়াল। পাওয়ার প্লেতে কোনও উইকেট না হারিয়ে, রানটাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান তারা। তবে বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়াল ছাড়া এদিন রানের মধ্যে ছিলেন না দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা। যশস্বী জয়সওয়াল করেন ২৯ বলে ৩৯ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছয়। বৈভব করেন ২৮ বলে ৪৬ রান। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছয়। তবে এদিন কেকেআরের হয়ে অবিশ্বাস্য বোলিং উপহার দিলেন সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী ও কার্তিক ত্যাগী। রাজস্থানের ওপেনিং জুটি ভেঙে যাওয়ার পর একটাও ভালো পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে নি। একের পর এক দ্রুত আউট হয়ে ফিরে যান ধ্রুব জুরেল, রিয়ান পরাগ, সিমরন হিটমায়াররা। সুনীল নারিন ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট। বরুণ চক্রবর্তী চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। আর ম্যাচের ১৯ তম ওভারে নাইটদের হয়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ের যাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন কার্তিক ত্যাগী। মাত্র ২ রান দিয়ে এক ওভারে নিলেন তিন উইকেট। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫৫ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস। ফলে সহজ টার্গেট নিয়েই এদিন ইডেনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে কেকেআর।

তবে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে নাইটরা। ০ তেই আউট হয়ে ফিরে যান টিম সাইফার্ড ও অজিঙ্কা রাহানে। ১০ রানে আউট হয়ে যান রঘুবংশি। একটু আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও ১৩ বলে ২৭ রানে ফিরে যান ক্যামরন গ্রিন। ২৩ রানে রভম্যান পাওয়েলকে আউট করে দেন জাদেজা। আইপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ১০ রানে রভম্যান পাওয়েলকে আউট করে দেন যশ রাজ।

তবে এরপর অনুকূল রায়কে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত লড়াই চালিয়ে যান রিঙ্কু সিং। ৩৪ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং । তিনি পাঁচটি চার, দুটি ছয় মারেন। ১৬ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন অনুকূল রায়। ১৯ ওভার ৪ বলে, ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে যায় কেকেআর। আইপিএলে মরসুমের প্রথম জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের। কলকাতায় ঘরের মাঠে রিঙ্কু সিং ও অনুকূল রায়ের ব্যাটে ভর করে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে হারিয়ে জয়ী নাইটরা। এই জয়ের ফলে নয় নম্বরে উঠে এল কেকেআর। তবে এদিন রাজস্থানের হয়ে বেশ ভালো বোলিং উপহার দেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি ৩ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান দিয়ে তুলে নেন ২ টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এছাড়াও আইপিএলে নিজের জীবনের প্রথমেই ম্যাচেই নজর কাড়লেন মাত্র ১৯ বছর বয়সি তরুন লেগ স্পিনার যশ রাজ। তিনি ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৫ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট।

অন্যদিকে নিজেদের ঘরের মাঠে লখনউ এর বিরুদ্ধে রানের পাহাড়ে পঞ্জাব কিংস। নিউ চণ্ডীগড়ে কার্যত সুপার সাইক্লোন তুললেন প্রিয়ানশ আর্য ও অজি তারকা কুপার কনোলি। একটা সময় মনে হচ্ছিল রানটা বোধহয় ৩০০ পেরিয়ে যাবে। আইপিএলের মঞ্চে নয়া ইতিহাস রচনা করবে পঞ্জাব কিংস। তবে তাদের দুইজন ছাড়া অন্যরা সেভাবে বড় রান করতে না পারায়, ৭ উইকেটে ২৫৪ রানেই থেমে যায় পঞ্জাব কিংস। প্রিয়ানশ আর্য করেন ৩৭ বলে ৯৩ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটে চার ও নয়টা ছয়। কুপার কনোলি করেন ৪৬ বলে ৮৭ রান। তিনি ৮ টি চার ও ৭ টি ছয় হাঁকান। ২৯ রান করেন মার্কোস স্টয়নিস।

আর জবাবে এই বিরাট রানের টার্গেটের সামনে রান তারা করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়ে লখনউ। তাদের হয়ে ২৮ বলে ৪০ রান করেন মিচেল মার্শ। ২৩ বলে ৪৩ রান করেন অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। তবে পঞ্জাবের বোলিংয়ের সামনে লড়াই করে এত বিরাট টার্গেটের সামনে ম্যাচ জেতার কাজটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে লখনউ এর কাছে। তবে কিছুটা চেষ্টা করেন আদিন মার্করাম। তিনি আউট হয়ে যান ২২ বলে ৪২ রানে। লখনউ ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে তোলে ২০০ রান। ৫৪ রানের বিরাট ব্যবধানে পঞ্জাব কিংস ম্যাচ জিতে লিগে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত থেকে গেল। ৬ ম্যাচ খেলে পাঁচ ম্যাচ জিতে পঞ্জাবের পয়েন্ট ১১ ,তারা শীর্ষস্থানে।
৬ উইকেটে আরসিবিকে হারিয়ে জয়ী দিল্লি, ১০ রানে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে জয় হায়দরাবাদের
