প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: গুয়াহাটিতে আইএসএলের ম্যাচ ঘিরে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। বৃষ্টির জেরে ক্রিকেট খেলা বন্ধ রাখা হয়! তবে ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করার দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। তবে রবিবার অসমের গুয়াহাটিতে প্রবল ঝড় এবং সঙ্গে এত ভয়াবহ বৃষ্টির দাপট যে মোহনবাগান বনাম নর্থ-ইস্ট ম্যাচের প্রথমার্ধের পরেই প্রায় ৪০ মিনিটের বেশি সময় ম্যাচ স্থগিত রাখতে হয় ম্যাচ কমিশনারের নির্দেশে। যা আইএসএলের ইতিহাসে নয়া দৃষ্টান্ত! তবে বৃষ্টি কিছুটা কমায় আবারও দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। কিন্তু মাঠে যথেষ্ট পরিমানে জল দাঁড়িয়ে থাকায়, খেলতে একাধিকবার আপত্তি জানান হয় নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে। কিন্তু রেফারি ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। তার জেরে খেলা শেষ হতেই রেফারির সঙ্গে বচসায় জড়ান রন্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের কোচ সহ ফুটবলাররা। তার জেরে লাল কার্ড দেখতে হয় নর্থ-ইস্টের কোচ পেদ্রো বেনালিকে।

উল্লেখ্য, মোহনবাগান বনাম নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড ম্যাচের শুরু থেকেই গুয়াহাটিতে ছিল বৃষ্টির দাপট। খেলার ৩ মিনিটে জেমি ম্যাকলারেন সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও ,৫ মিনিটে ভুল করেননি রবসন রবিনহো। লিস্টন কোলাসো ও সাহালের পাসিং মুভ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-০। আর এই গোলের পর ম্যাচের আধিপত্য চলে আসে মোহনবাগানের দখলে। প্রথমার্ধে লিষ্টন ও কামিন্স এরপরও একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে, ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও নর্থ ইস্টের রক্ষণে তা আটকে যায়। অন্যদিকে, নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের হয়ে পার্থিব গগৈ গোলের সুযোগ তৈরি করেন, তবে আক্রমণ রুখে দিয়ে জাল অক্ষত রাখেন বিশাল কাইথ। খেলার প্রথমার্ধ চলার সময় থেকেই বাড়তে থাকে বৃষ্টির দাপট। তবে প্রথমার্ধে খেলা বন্ধ রাখার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে খেলার প্রথমার্ধে আক্রমণ থেকে বল পজিশনে অনেকটাই এগিয়ে ছিল সবুজ-মেরুন বাহিনী।

প্রথমার্ধে খেলা চলাকালীন মাঠের বিভিন্ন জায়গায় জল দাঁড়িয়ে থাকায় বেশ কয়েকজন ফুটবলার দুই দলেরই স্লিপ কেটে মাঠে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। আহত হন ফুটবলাররা। প্রথমার্ধের শেষের দিকে হলুদ কার্ড দেখেন মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বোস। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর, প্রবল বর্ষণে মাঠে জল জমে যাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ম্যাচ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেশ কিছু সময় পর মাঠে নেমে মাঠের পরিস্থিতি ঘুরে পর্যবেক্ষণ করেন রেফারিরা। যন্ত্রের সাহায্যে মাঠের জল সরানোর কাজও চালানো হয়। দেখা যায় বালতি করেও মাঠের সাইডলাইনের জল সরানোর কাজ চলছে। তবে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় জল থাকলেও, বৃষ্টির দাপট একটু কমে যাওয়ায় খেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন রেফারিরা। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হলেও ভারি বৃষ্টির কারণে মাঠে জল দাঁড়িয়ে থাকায়, ফুটবলাররা স্বাভাবিক ছন্দ হারান। তার কারণ দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর আবারও অতি ভারী বৃষ্টি আসে। ফলে মাঠে বলের কন্ট্রোল ধরে রাখতে গিয়ে বেসামাল হতে দেখা যায় ফুটবলারদের। দ্বিতীয়ার্ধে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের ফুটবলাররা বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। তাদের আক্রমণ রুখে দেন মোহনবাগানের ফুটবলাররা।

শেষ পর্যন্ত রেফারি ক্রিস্টাল জন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন মোহনবাগান ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় খেলা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের কোচ পেদ্রো বেনালি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রেফারি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এরপরই দেখা যায় রেফারিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাদের ফুটবলাররা। নর্থ-ইস্টের বেশ কিছু প্লেয়ারদের হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে প্রবল বৃষ্টির প্রতিকূলতাকে জয় করে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ১ গোলে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিল মোহনবাগান। আর এর ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। উল্লেখ্য আপাতত রাজ্যে বিধানসভা ভোটের কারণে যুবভারতীতে কোনও হোম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে না। লম্বা ছুটি কাটাতে পারবেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। মোহনবাগানের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ মে গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। ১২ মে আবারও যুবভারতীতে হোম গ্রাউন্ডে ম্যাচে ফিরবে সবুজ-মেরুন বাহিনী। ১২ মে মোহনবাগান কলকাতায় খেলবে ইন্টারকাশির বিরুদ্ধে। তারপরেই ১৭ মে ডার্বিতে যুবভারতীতে খেলবে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। আর লিগে সবুজ-মেরুনের শেষ ম্যাচ ১৭ মে যুবভারতীতে স্পোটিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে। মোহনবাগান এখনও পর্যন্ত ৯ ম্যাচ খেলে ৬ ম্যাচে জয় লাভ করেছে, ২ ম্যাচ ড্র এবং একটি ম্যাচ তারা হেরেছে মুম্বই সিটির কাছে। মোহনবাগানের পয়েন্ট ২০। মুম্বই সিটি ৯ ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট ১৮, তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
রিঙ্কুর ব্যাটে ভর করে রাজস্থানকে হারিয়ে প্রথম জয় নাইটদের, ৫৪ রানে লখনউকে হারিয়ে জয়ী পঞ্জাব
