Tuesday, April 21, 2026
Homeসম্পাদকের প্রতিবেদনভোট বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপ ময়দানেও! সমীকরণ বুঝে জল মাপছেন অনেক ক্রীড়াব্যক্তিত্ব

ভোট বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপ ময়দানেও! সমীকরণ বুঝে জল মাপছেন অনেক ক্রীড়াব্যক্তিত্ব

আইএফএতে নির্বাচন আছে জুন মাসে। সেক্ষেত্রে বঙ্গ ফুটবলের সংস্থার কোন পদে কি রদবদল হবে সেটাও দেখার।

সৌরভ রায়, সম্পাদক 

ময়দান আপডেট: বঙ্গে এখন খেলাধূলা প্রায় কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধই বলা যায়। আপাতত কলকাতায় নেই কোনও আইএসএলের ম্যাচ। আইপিএলেও ইডেনে কেকেআর-রাজস্থান ম্যাচ দিয়েই ইতি পড়েছে। আগামী প্রায় দুই সপ্তাহ ইডেনে কোনও ক্রিকেটের ম্যাচ নেই। তার কারণ বঙ্গে এখন দরজায় কড়া নাড়ছে নির্বাচন। আর কথায় আছে ভোট বড় বালাই! ভোট বৈতরনী পার হতে শাসক থেকে বিরোধী শিবিরের প্রচার থেকে শুরু করে, নিত্য-নতুন নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম-নির্দেশে সরগরম বাংলা। এযেন বৈশাখের কঠোর উত্তাপকেও টেক্কা দিচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ! নির্বাচনী বিধি মেনে খেলা বন্ধ থাকলে কি হবে! তাই বলে কী ময়দানের খবর থেমে থাকে ? কি বিষয়টা ধোঁয়াশা থেকে গেল? আসলে ভোট বঙ্গে এখন নির্বাচনী প্রচারের রমরমা ময়দানেও! ময়দানের সঙ্গে যুক্ত খেলোয়াড়, কোচ থেকে ক্রীড়া প্রশাসক কিংবা সমর্থক এনারাও যে রাজ্যের ভোটার। তাদের থেকেও তো আসতে পারে একটা বড় অঙ্কের ভোট। তাই একযোগে রথ দেখা, কলা বেচা দুই কাজই সারতে চাইছেন রাজনীতিবিদরা। আসলে গত দুই দিন ধরে দেখা যাচ্ছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি তথা বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে প্রতিদিনই সন্ধ্যায় শহরের পাঁচতারা হোটেলে নববর্ষের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। কোনও দিন প্রাক্তন ফুটবলার থেকে ক্রীড়া প্রশাসক তো, কোনও দিন আবার বাংলার তিন প্রধানের সমর্থকদের আহ্বান জানাচ্ছেন ! ব্যাপারটা কী !

কল্যাণ চৌবে দেশের ফেডারেশন সভাপতি, সুতরাং তিনি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ করতেই পারেন। তবে কারা যাবেন আর কারা নিমন্ত্রণ উপেক্ষা করবেন ? সেটাও বোধহয় এখন ভোটের মরসুমে ভাবছেন ক্লাব কর্তারা। যতই হোক কল্যাণ চৌবে একজন বিজেপি নেতা হিসাবেও পরিচিত যে! তাই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দুই দিন আগে শহরের পাঁচতারা হোটেলে কল্যাণের আয়োজিত নববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের নিয়ে বৈশাখী ফুটবল আড্ডার আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে ময়দানের এরিয়ান, কাস্টমস, বিএসএস থেকে মহামেডান স্পোর্টিং বেশ কিছু ক্লাবের কর্মকর্তাদের দেখা গেলেও, সে ভাবে দেখা গেল না মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি, সচিব কিংবা কোনও উচ্চপদস্ত শীর্ষ কর্তাকে। ইস্টবেঙ্গলের তরফে নিতু সরকার না থাকলেও, ছিলেন বাবু চক্রবর্তী। ডায়মন্ড হারবার তারাও নেই! অনেক ফুটবলারও ভাবছেন ভোটের মরসুমে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে, কি হবে না! তাই দেখা গেল না প্রশান্ত ব্যানার্জী, শিশির ঘোষ, সত্যজিৎ চ্যাটার্জী, ভাস্কর গাঙ্গুলী এবং মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুব্রত ভট্টাচার্যদের মতো প্রাক্তন কিংবদন্তিদের। আইএফএর তরফে সুদেষ্ণা মুখার্জী থাকলেও, আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত কিংবা সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দেখা যায় নি। যদিও এদিন পরিচয় পর্ব দেবার সময় সুদেষ্ণা মুখার্জী বলেন, তিনি মহিলা ম্যাচ কমিশনার। সুতরাং মহিলা ম্যাচ কমিশনার হিসাবেই তিনি এসেছেন। এছাড়া আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত ছিলেন, তবে তাঁর আরও একটি পরিচয় তিনি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি। আগামী দিনেও ফেডারেশনের শীর্ষ পদে তাঁকে দেখা যেতেই পারে! আসলে ভোট বাংলায় আগামী ৪ তারিখের পর কারা ক্ষমতায় থাকবে তা অজানা। তাই শাসক পক্ষ হোক কিংবা বিরোধী, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেক ক্রীড়া জগতের মানুষরাই! এককথায় নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকাই শ্রেয়।  

আর পরের দিন সোমবার খেলো বাংলা খেলো- নাম দিয়ে আরও একটি নববর্ষের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন কল্যাণ চৌবে। সেখানে অবশ্য তিন প্রধান দলের সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের সমস্যা থেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়ার কথাও মন দিয়ে শুনলেন কল্যাণ চৌবে। সমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিচ্ছেন মন জয় করতে। কিন্তু কোথাও ময়দানের গুঞ্জন ভোটের মুখেই কেন এত বাংলার ক্রীড়া জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছেন ফেডারেশন সভাপতি? যদিও কল্যাণের এই আমন্ত্রণের ইঙ্গিতটা কম-বেশি সকলেই বুঝতে পারছেন। নববর্ষের দিনেও দেখা যায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে কল্যাণ চৌবে, বিকেলে ক্যালকাটা কাস্টমস ক্লাবে ময়দানের মালিদের পাশে দাঁড়াতে ও সম্মান জানাতে সবুজ যোদ্ধা নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আর রবিবার শহরের পাঁচতারা হোটেলে কল্যাণের নববর্ষের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী কিরন রিজুজু। তাঁর উপস্থিতির ইঙ্গিতটা আরও স্পষ্ট করে দেয়। দেশের খেলাধূলার উন্নতিতে কতটা সাফল্য তিনি দিয়েছেন সেই বার্তাও জানান কিরন রিজুজু। আর এই অনুষ্ঠানে কল্যাণ চৌবে ইঙ্গিত দিলেন, তাঁর এই পদে আগামী দিনে অন্য কেউ আসতে পারে। কোনও পদই কারর জন্য চিরস্থায়ী নয়। যাওয়ার আগে ময়দানে আঁচড় কেটে যেতে চাই। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে কোচিং সেন্টার চালু করে সেখানে তিনি প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়ে যেতে চান। তরুণদের মত সারা বছর জুনিয়রদের নিয়ে কাজ করা ফুটবলারা কিন্তু প্রচন্ড উৎসাহী ওই প্রস্তাবে। 

পাশাপাশি এই বছর আইএফএতে নির্বাচন আছে জুন মাসে। সেক্ষেত্রে বঙ্গ ফুটবলের সংস্থার কোন পদে কি রদবদল হবে সেটাও দেখার। আর ময়দানের ফুটবল ক্লাবের ভোট হোক হোক কিংবা ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবির ভোট, অথবা আইএফএর নির্বাচনেও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অনেকটাই  পরিচালিত হয় রাজ্যের শাসক দলের ইশারায়। তাই রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকবে নাকি বিজেপি ক্ষমতায় আসবে তার উপর ময়দানের বিভিন্ন সমীকরণেও বদল আসতে পারে! সেই দিকেও ভাবছেন কল্যাণ চৌবে। তাই ভোট বাংলায় ময়দানেও প্রচারের আবহ বেশ সরগরম! ফলে এখন দেখার শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভোটের ফলাফলে ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বঙ্গ ফুটবলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় কিনা !   

প্রবল বৃষ্টি গুয়াহাটিতে, মাঝপথে দীর্ঘসময় বন্ধ খেলা! তবে রবসনের গোলে জিতে শীর্ষে মোহনবাগান

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular