ময়দান আপডেট: আইপিএলের ইতিহাসে বহু ম্যাচই অতীতে সর্বনিম্ন স্কোরের রেকর্ড গড়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৯ বছরের আইপিএলের ইতিহাস বলছে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোর, কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে আরসিবি ৪৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। এছাড়া লো-স্কোরিং এর ইনিংসের তালিকায় রয়েছে ২০০৯ সালে রাজস্থান রয়্যালস আরসিবির বিরুদ্ধে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। ২০২৩ সালের আইপিএলে আবারও রাজস্থান আরসিবির বিরুদ্ধে ৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। ২০১৭ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৬৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ২০০৮ সালে কেকেআর মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে অলআউট হয় ৬৭ রানে। আর সেই তালিকায় এবার নয়া সংযোশন ২০২৬ সালের চলতি আইপিএলে সোমবার দিল্লি ক্যাপিটালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ৭৫ রানে অলআউট হয়ে গেল। আইপিএলে লো-স্কোকিং ম্যাচের আরও একটা উদাহরন তৈরি হল। আর ৭৫ রানের টার্গেট মাত্র ৬ ওভার ৩ বলেই তুলে নিয়ে ম্যাচ জিতে গেল আরসিবি। ফলে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র খেলা হল ২৩ ওভার। অবশ্য সোমবার দিল্লি বনাম আরসিবি ম্যাচে আরও কম রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার রেকর্ড গড়তে পারত দিল্লি। শুধুমাত্র বাংলার ঘরের ছেলে অভিষেক পোড়েলের উইকেট আগলে কিছু সময় লড়াই করার সুবাদে এদিন ৭৫ রান করতে সমর্থ হয় দিল্লি।

উল্লেখ্য, চলতি আইপিএলে এর আগে ব্যাঙ্গালুরুতে কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে আরসিবিকে হারিয়ে জয় পেয়েছিল দিল্লি। ফলে এদিন দিল্লির ঘরের মাঠে কার্যত বদলার লড়াই ছিল আরসিবির কাছে। সেই ম্যাচে এককথায় দুর্দান্ত ভাবে মধুর প্রতিশোধ নিল আরসিবি। এদিন টস জিতে আরসিবি ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকেই বল হাতে আগুন ঝরালেন ভুবণেশ্বর কুমার ও যশ হ্যাজেলউড। তাদের যুগলবন্দি বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল দিল্লির ইনিংস। পাওয়ার প্লে-তে আইপিএলে সর্বনিম্ন স্কোরের নয়া রেকর্ড তৈরি করল এদিন দিল্লি। প্রথম ৬ ওভারে পাওয়ার-প্লেতে মাত্র ১৩ রানে ৬ উইকেট হারায় দিল্লি। ভুবণেশ্বর কুমার ও যশ হ্যাজেলউড ৩ ওভার করে বল করে দুইজনেই পাওয়ার-প্লেতে ৩ টি করে উইকেট তুলে নেন। ১৩ রানে ৬ উইকেট হারানো দিল্লির ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল দিল্লি হয়তো ৫০ রানের কমেই অলআউট হয়ে যাবে। তবে সেই জায়গা থেকে দলকে একটু স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন বাংলার উইকেটরক্ষক ব্যাটার অভিষেক পোড়েল ও ডেভিড মিলার। মিলার করেন ১৮ বলে ১৯ রান। এরপর একটি চার ও একটি ছয় মেরে কার্ল জেমিসন করেন ১৩ বলে ১২ রান। লাস্ট উইকেট পর্যন্ত ব্যাট করে অভিষেক লাস্ট উইকেটে আউট হয়ে যান ৩৩ বলে ৩০ রানে। হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। অভিষেকের ইনিংসে ছিল ৩ টি চার।

এদিন আরসিবির বোলাররা বল হাতে একাধিক দুর্দান্ত নজির গড়লেন। ভুবণেশ্বর কুমার ৩ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে নিলেন ৩ উইকেট। যশ হ্যাজেলউড ৩ ওভার ৩ বলে মাত্র ১২ রান দিয়ে নিলেন ৪ উইকেট। সূয়েশ শর্মা ৪ ওভার বল করে মাত্র ৭ রান দিয়ে ১ টি মেডেন ও ১ টি উইকেট তুলে নেন। ক্রনাল পান্ডিয়া ২ ওভারে ৯ রান দিয়ে নিলেন ১ উইকেট। আর জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন জেকব বেথেল। যদিও বেথেলকে ১১ বলে ২০ রানে আউট করে দেন কার্ল জেমিসন। ১ টি চার ও ২ টি ছয় মারেন বেথেল। তবে এরপর ব্যাট করতে এসে দ্রুত খেলা শেষ করার মানসিকতা নিয়ে কোহলির সঙ্গে আক্রমণাত্বক মেজাজে ব্যাট চালাতে দেখা যায় দেবদূত পাড্ডিকালকে। মনে হচ্ছিল পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচ জিতে যাবে আরসিবি। সেটা না হলেও, ৬ ওভার ৩ বলেই খেলা শেষ করে দেন কোহলি ও পাড্ডিকাল। ১৫ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন বিরাট কোহলি। এদিন আইপিএলে নিজের ৯ হাজার রান পূর্ণ করলেন কিং কোহলি। এদিন কোহলির ইনিংসে ছিল ১ টি চার ও ২ টি ছয়। দেবদূত পাড্ডিকাল ১৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তিনটি চার ও ৩ টি ছয় হাঁকান তিনি। ১ উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় আরসিবি। ১২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন যশ হ্যাজেলউড। আর এই বড় ব্যবধানে জয়ের ফলে রান রেটের বিচারে অনেকটাই উপরে উঠে আসল আরসিবি। ফলে এবার আবারও আইপিএল জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। আরসিবির পরবর্তী ম্যাচ আগামী ৩০ তারিখ গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে আমেদাবাদে।
অনবদ্য লড়াই রিঙ্কু সিং-এর! সুপার ওভারে লখনউকে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় নাইটদের
