ময়দান আপডেট: আইএসএলে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মঙ্গলবার মুম্বই এরিনায় মুম্বই সিটি এফসির মুখোমুখি হয় ইস্টবেঙ্গল এফসি। এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত লিগে ইস্টবেঙ্গল ৯ ম্যাচ খেলে ৫ ম্যাচে জয়, ৩ ম্যাচ ড্র ও একটি ম্যাচ হেরে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শুরু করে। অন্যদিকে মুম্বই তারা ১০ ম্যাচ খেলে ৫ ম্যাচে জয়, ৪ ম্যাচ ড্র ও একটি ম্যাচ হেরে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে খেলতে নামে। তবে এদিন লাল-হলুদের জন্য খুশির খবর মিগুয়েলের সাসপেন্ড প্রত্যাহার করে নেয় ফেডারেশন। ফলে এদিন ম্যাচে দলে ফেরেন মিগুয়েল। যদিও এদিন বেঞ্চে পরিবর্তিত হিসাবে রাখা হয় মিগুয়েল ও ইউসুফ ইজ্জেজারিকে। এদিন জেরি, এডমুন্ড ও অ্যান্টন সোজবার্গকে আক্রমণ ভাগে রাখা হয়। আর এদিন খেলার শুরু থেকেই ঘন-ঘন আক্রমণে উঠতে দেখা যায় মুম্বই ফুটবলারদের। খেলার শুরুতেই ৮ মিনিটে ব্রান্ডন ফার্নান্ডেজের গোলে এগিয়ে যায় মুম্বই সিটি এফসি। পোস্টের সামনে থেকে দুর্দান্ত গোল করেন ফার্নান্ডেজ। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-০। ১৫ মিনিটে একটা গোলের সুযোগ তৈরি হলেও, সুযোগ নষ্ট করেন ছাংতে। ২০ মিনিটে বিপিনের কর্নারে এডমুন্ড গোলের প্রচেষ্টা করলেও, গোল আসেনি ইস্টবেঙ্গলের। ২২ মিনিটে ব্রান্ডনকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখানো হয় বিষ্ণুকে। তবে রশিদ, সোজবার্গদের বেশ কয়েকটা গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেখা যায়, যদিও গোল আসে নি। ৩১ মিনিটে একটি ট্যাকল করতে গিয়ে বিক্রম প্রতাপ সিং ও ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুইজনের চোট পান এরফলে। যদিও চোট খুব একটা গুরুতর নয় বলাই যায়।

এরপর ৪২ মিনিটে মুম্বইয়ের ব্রান্ডন ফার্নান্ডেজ একটা সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। খেলার ৪ মিনিট অতিরিক্ত সময়ে গোলের প্রচেষ্টা করলেও গোল শোধ করতে পারেনি লাল-হলুদ বাহিনী। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি পরিবর্তন করে ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েল, ইউসুফ ইজ্জেজারি ও শৌভিককে মাঠে নামান কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। তুলে নেওয়া হয় অ্যান্টন সোজবার্গ, রশিদ ও জেরিকে। তবে মাঠে নেমেই ৫০ মিনিটে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন শৌভিক। ৫৬ মিনিটে এডমুন্ডের জায়গায় নামানো হয় নন্দাকুমার শেখরকে। ৫৭ মিনিটে জনি কাউকো মিগুয়েলকে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করেন, ফলে কাউকোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ৫৯ মিনিটে ইউসুফ ইজ্জেজারি পেনাল্টিতে গোল করে সমতায় ফেরান ইস্টবেঙ্গলকে। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-১। লিগে নিজের ১০ নম্বর গোল করে ফেললেন ইজ্জেজারি। ৬১ মিনিটে মুম্বইয়ের হয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন নাওফল, তবে গোল আসেনি। এরপর ৬২ মিনিটে ছাংতে একটা গোলের প্রচেষ্টা করলেও, আনোয়ার আলি রুখে দেন।

উল্লেখ্য ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মিগুয়েল ও ইজ্জেজারি নামার পর খেলার গতি অনেকটাই দেখা যায় ইস্টবেঙ্গলের। তবে খেলার ৭১ মিনিটে দূরপাল্লার শটে বিশ্বমানের একটা দুর্দান্ত গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন নন্দাকুমার শেখর। ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যায় ২-১ গোলে। এই গোলের ফলে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের।

৭৩ মিনিটে সাউল ক্রেসপোকে তুলে নিয়ে নামানো হয় লাল চুংনুঙ্গাকে। ৭৭ মিনিটে ছাংতে একটি গোল করে ফেললেও, অফসাইডের জন্য বাতিল হয় গোল। খেলার অতিরিক্ত সময়েই বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করে দুই দলই। মুম্বই গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একাধিক ভালো আক্রমণ করেন মুম্বইয়ের ফুটবলাররা। তবে গোল রুখে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। ফলে শেষ পর্যন্ত নিজেদের ঘরের মাঠে ১ গোলে এগিয়ে থেকে মরিয়া প্রয়াস করেও, জয় অধরাই থেকে গেল মুম্বই সিটি এফসির। অন্যদিকে মুম্বইয়ের মাটিতে ২-১ গোলে মুম্বই সিটিকে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল লাল-হলুদ বাহিনী। আর এই জয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে লিগ টেবিলে শীর্ষে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল এফসি। অন্যদিকে ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নম্বরে নেমে গেল মুম্বই সিটি। ফলে তাদের লিগ জয়ের স্বপ্ন কার্যত এদিন নিজেদের ঘরের মাঠেই শেষ হয়ে গেল তা বলা যেতেই পারে। তবে এদিন মুম্বই এরিনায় উপস্থিত মুম্বই সমর্থকরা যথেষ্ট হতাশ হলেও, মুম্বইয়ে খেলা দেখতে যাওয়া লাল-হলুদ সমর্থকরা যে যথেষ্ট খুশি তা বলা যেতেই পারে। এদিন মুম্বইয়ের ঘরের কোচ অস্কারের হাত ধরে ম্যাচ জিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। উল্লেখ্য ইস্টবেঙ্গলের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ১১ তারিখ নিজেদের ঘরের মাঠে যুবভারতীতে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে মুম্বই সিটির পরবর্তী ম্যাচ কলকাতায় মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে। আর মুম্বই লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে ১৭ তারিখ পঞ্জাবের ঘরের মাঠে পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে।
