ময়দান আপডেট: আর একদিন পরেই তাঁর জন্মদিন। ২৪ জুন বুধবার বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসির জন্মদিন। ফলে সেই দিনটার অপেক্ষা করে আছেন গোটা বিশ্বের কোটি কোটি লিও ভক্তরা। আর জন্মদিনের ঠিক একদিন আগেই তার প্রিয় সমর্থকদের বিশেষ উপহার দিলেন এলএম টেন। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গোলের হ্যাটট্রিক করার পর, সোমবার রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোজকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। ক্লোজের গোল ১৬, আর মেসির এদিন প্রথম গোলের পর গোলসংখ্যা হয়ে যায় ১৭। পাশাপাশি এইবারও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন লিও। কারণ পরপর দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউটে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা।

তবে এদিন ম্যাচের নয় মিনিটেই পেনাল্টিতে গোল করা সহজ সুযোগ ছিল মেসির সামনে, অথচ পেনাল্টি মিস করেন মেসি। যা বোধহয় এককথায় ভাবতেই পারছিলেন না ফুটবলপ্রেমীরা। তবে মেসিও তো একজন রক্তমাংসের মানুষ সুতরাং ভুল তো হতেই পারে। তবে সেই আফসোসের হতাশা কাটিয়া সমর্থকদের আবারো চাঙ্গা করে দিলেন সেই লিওনেল মেসি। একটি নয় গোটা ম্যাচে করলেন দুটি গোল। ৩৮ মিনিটে গোল করলেন মেসি। এবারের বিশ্বকাপে তাঁর চতুর্থ গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৭তম গোল এলএম টেনের। প্রতি আক্রমণে আলমাডা বল নিয়ে ফাইনাল থার্ডে ঢুকে যান। তিনি বাঁ দিকে মেদিনাকে বল দেন। তিনি বক্সের মাঝখানে ক্রস করেন। মেসি বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করলেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে চাপ বাড়াতে শুরু করে অস্ট্রিয়া। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা, তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা।বক্সের মধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের জায়গা দিচ্ছিলেন না অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডারেরা। ফলে মনে হচ্ছিল এক গোলেই হয়তো ম্যাচ জিতবে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে আরও একটি গোল এল মেসির পা থেকে। বক্সের মধ্যে আর্জেন্টিনার তিনজন ঢুকে পড়েন। আলভারেজের শট বাঁচিয়ে দেন শ্লেগার। তিনি মাটিতে পড়ে যান। ফিরতি বল ধরে গোল করেন মেসি। ফলে দুই ম্যাচে পাঁচটি গোল করে বিশ্বকাপে ১৮ টি গোলের মালিক হয়ে গেলেন লিও। ফলে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মনে করছেন সোমবারে রাতে মেসির এই জোড়া গোল তিনি তার অনুরাগীদের জন্মদিনের উপহার দিলেন।
বলা যেতেই পারে বিশ্বকাপের আসরে একে অপরের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। সোমবার রাতে মিরোস্লাভ ক্লোজকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে যখন সর্বাধিক গোলের মালিক হয়ে গিয়েছেন মেসি। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই এবার ক্লোজকে ছুঁয়ে ফেললেন ফ্রান্সের তারকা এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিও করে ফেললেন ১৬ গোল। ছাপিয়ে গেলেন ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে। সামনে কেবলমাত্র মেসি। তার গোল ১৮। ফলে এবারের বিশ্বকাপে এখন দেখার শেষ পর্যন্ত মেসি নাকি এমবাপ্পে কে কার রেকর্ড ভাঙতে পারেন। ফ্রান্স প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারানোর পর, এদিন ইরাককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিল ফরাসিরা। পর পর দুই ম্যাচেই জোড়া গোল এমবাপ্পের। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। তাঁর শটের কোনও জবাব গোলরক্ষকের কাছে ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হওয়ার পর আবার গোল করেন এমবাপে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে টপকে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন ক্লোজকে। ফ্রান্সের হয়ে ৬৬ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন উসমান দেম্বেলে।

তবে এদিন ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচে মাঠে যেমন একের পর এক গোল প্রদর্শন করলেন ফ্রান্সের ফুটবলাররা ঠিক তেমনি অন্যদিকে আমেরিকার ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রায় দুই ঘন্টারও বেশি সময় ম্যাচ বন্ধ রাখতে হল। ফলে দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা ধরে।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দীর্ঘতম ম্যাচ।ফিলাডেলফিয়াতে যে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে তা আগেই জানা গিয়েছিল। বিরতির সময়েই জানা যায়, স্টেডিয়ামের কাছাকাছি ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামেও তা শুরু হয়। ফলে ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর পরিস্থিতির স্বাভাবিক হওয়ায় আবার খেলা শুরু হয়। সব মিলিয়ে বৃষ্টি বিঘ্নিত এই ম্যাচে দুর্দান্ত জয় দিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার টিকিট কেটে ফেলল ফ্রান্স। সোমবার একই রাতে বিশ্বকাপের নকআউটে যাওয়া নিশ্চিত করে ফেলল মেসির আর্জেন্টিনা ও কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স। দুই দলই পর-পর দুই ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। গতবার কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। এবারও এই দুই দলকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ চড়ছে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে।
