ময়দান আপডেট: মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকালের মধ্যে বিশ্বকাপে জোড়া অঘটন। ফুটবল বিশ্বকাপে যে সমস্ত দেশকে ফেভারিট হিসেবে ধরা হয়, তাদের মধ্যে অন্যতম দুই শক্তিশালী বড় নাম হিসেবে পরিচিত জার্মানি ও নেদারল্যান্ড। অথচ মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে বহু সমর্থকদের হৃদয়ভঙ্গ করল এই দই তারকাখচিত দেশ। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রাউন্ড 32 এর লড়াইয়ে টাইব্রেকারেই বিশ্বকাপের সফর শেষ করল জার্মান ও ডাচরা। জার্মানিকে নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কারণ বিশ্বকাপের এবারের শুরুটা বেশ আকর্ষণীয় ভাবে করেছিল জার্মানি। অথচ শেষটা ভালো হলো না। টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় জার্মানির। খেলার ফলাফল ছিল ১-১। অতিরিক্ত সময়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেই টাইব্রেকারে আটকে গেল জার্মানরা।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকে প্রত্যাশা মতোই দাপট ছিল জার্মানির। ফেলিক্স মেচা, কাই হাভার্ৎজেরা একের পর আক্রমণ তৈরি করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেলে কখনও মাঠের মাঝখান দিয়ে আবার কখনও উইং ব্যবহার করে প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ছ’গজের বক্সের মধ্যে তাঁদের জায়গা দিচ্ছিলেন না প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। এদিনের লড়াই হচ্ছিল মূলত প্যারাগুয়ের রক্ষণের সঙ্গে জার্মানির আক্রমণের। তবে খেলার গতির বিপরীতে ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। কর্ণার থেকে দ্রুত পরিকল্পিত আক্রমণ তৈরি করে প্যারাগুয়ে। বক্সের মধ্যে প্রায় অরক্ষিত ছিলেন হুলিয়ো এনসিসো। মাতিয়াস গালারজার ভাসিয়ে দেওয়া বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন তিনি। ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজের সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন হাভার্ৎজ। এরপর ম্যাচ ড্র হওয়ায় খেলা অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই জয় লাভ করে প্যারাগুয়ে। ফলে এইবারের মতো সফর শেষ করল জার্মানরা।

জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বুধবার সকালে বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি অঘটন। আবারও সেই টাইব্রেকারেই আটকে গেল শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ড। ডাচদের রুখে দিয়ে চমক দিল মরক্কো। ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর 2026 সালেও নকআউট পর্বে টাইব্রেকারেই হেরে বিদায় নিতে হল নেদারল্যান্ডকে। ম্যাচে খেলার ফলাফল ১-১ ছিল, টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে জয়ী মরক্কো। তবে এদিন ম্যাচে ডাচদের অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ ফুটবলই যে তাদের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াল তা বলা যেতেই পারে।

নেদারল্যান্ডসের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কাজে লাগায় মরক্কো। হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ,সাইবারিদের পায়ে আক্রমণে উঠছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে নেদারল্যান্ডের কোচ নামিয়ে দেন উইঘর্স্ট ও কুপমেইনার্সকে। তাঁরা নামার পরই নেদারল্যান্ডস গোল করে। উইঘর্স্টের হেড থেকে বল পান সামারভিল।তাঁকে মরক্কোর রক্ষণ আটকে দিলেও গাকপোকে আটকে পারেনি। গোলরক্ষক বোনো এগিয়ে আসার আগেই ডান পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন গাকপো। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ড। আর এই গোলের পর অনেকে ভেবেই নিয়েছিলেন এই ম্যাচ হয়তো জিতে যাবে নেদারল্যান্ড, কিন্তু খেলার অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ডাচদের সমতায় ফেরান দিয়প। হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন দিয়প। সমতা ফেরে মরক্কো। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আর কোন গোল আসেনি। ম্যাচ চলে যায় টাইব্রেকারে। তবে এদিন দুই দলেরই টাইব্রেকার খুব একটা ভালো যায় নি। গোলের সুযোগ নষ্ট করে দুই দলই। তবে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে ইসমাইল সাইবারির শট জালে জড়াতেই স্বপ্ন শেষ অরেঞ্জ আর্মিদের। আর এর ফলে নেদারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে চলে গেল মরক্কো। একরাশ হতাশা নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে ডাচদের।
১ গোলে পিছিয়ে থেকেও জাপানকে ২-১ এ হারিয়ে, বিশ্বকাপের রাউন্ড 16 এ ব্রাজিল
