ময়দান আপডেট: বিশ্বকাপে তিন আয়োজক দেশই এবার জায়গা করে নিয়েছিল বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ 16 অর্থাৎ প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। আয়োজক আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডা তিন দলই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে। অথচ বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর কাছে হেরে সফর শেষ করল কানাডা। যদিও এদিন খেলার গোটা প্রথমার্ধ জুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল প্রদর্শন করেছে আয়োজক দেশ কানাডা। স্টেডিয়াম জুড়ে সমর্থকদের উন্মাদনাও ছিল আকাশছোঁয়া। প্রথমার্ধে সেভাবে আক্রমণ দেখাই যায়নি মরক্কোর। বরং কানাডার আক্রমণ রুখতে তারা বেশি তৎপর ছিল। কিন্তু কানাডা ভালো খেললেও প্রথমার্ধে কোন গোল তুলতে না পারাই, তাদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। তার কারণ খেলার প্রথমার্ধে কানাডার দাপট থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে অভিজ্ঞ মরক্কো দল। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মরক্কো ফুটবলারদের অভিজ্ঞতায় তাদের সাফল্যের প্রধান কারণ এই দিনের ম্যাচে। সেইখানেই অনেকটা পিছিয়ে পড়ল আয়োজক কানাডা। ঘনঘন আক্রমণে উঠছিল মরক্কোর ফুটবলাররা। তাদের সামলাতে রীতিমতো কালঘাম ছুটে গেল কানাডার। আর এদিন ৩-০ গোলে কানাডাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল মরক্কো। জোড়া গোল আজেদিন ওউনাহির। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল তারা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

এদিন ম্যাচের 50 ও 82 মিনিটে দুটি গোল করেন ওউনাহির। আর খেলার সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে একটি গোল করেন রাহিমি। ম্যাচের ৬ মিনিটেই ভাল সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। জোনাথন ডেভিডের শট আটকে দেন মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বোনো। তবে এরপর প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করে কানাডা, তবে তা কার্যকরী হয়নি। এছাড়া ম্যাচের প্রথমার্ধে রেফারি দুই দল মিলিয়ে ছয়টি হলুদ কার্ড দেখান। তার কারণ দুই দলের ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে বচসায় জড়ানো থেকে শুরু করে, একাধিকবার সংঘর্ষ, আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা আক্রমণের ঝড় তুলেছিল মরক্কো। এদিন তিন গোল নয়, আরও বেশি গোলে জিততেই পারতো মরক্কো। খেলার শেষের দিকে মরক্কোর একটি গোল বারপোস্টের সামনে ধাক্কা লেগে বাইরে বেরিয়ে চলে আসে। না হলে ম্যাচের চতুর্থ গোলটি এসে যেতে পারত মরক্কোর। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল আফ্রিকার এই দেশ মরক্কোর ফুটবলাররা।
