ময়দান আপডেট: বিশ্বকাপের রাউন্ড 32 এ কেভ ভার্দের কাছে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেদিনও আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতলেও, ফুটবল প্রেমীদের মন জয় করেছিল কেভ ভার্দে। আর মঙ্গলবার রাতেও দিনের শেষে আর্জেন্টিনা জয় পেলেও, গোটা ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নিল মিশর যাদের বলা হয় এজিপ্ট। এদিন খেলার গোটা প্রথমার্ধ জুড়ে আধিপত্য ছিল এজিপ্টের। ১৫ মিনিটেই ইউসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় এজিপ্ট। এরপর প্রথমার্ধে একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনা। ২০ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল মিস করেন লিওনেল মেসি। যা হতাশ করে সমর্থকদের। আর এদিন অসাধারণ গোলরক্ষকের ভূমিকায় দেখা গেল এজিপ্টের মুস্তাফাকে। আর্জেন্টিনার একাধিক গোল আটকালেন এজিপ্টের হয়ে মুস্তাফা। প্রথমার্ধে এজিপ্ট ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর, দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায়। তবে ৬৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে তিন পাসে আর্জেন্টিনার গোলে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন জিকো। কিন্তু তার আগে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করায় রেফারি গোল বাতিল করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে আরও একবার প্রতি আক্রমণ থেকে গোল করে এজিপ্ট। এবার আর জিকোর গোল বাতিল হয়নি। ২-০ গোলে এজিপ্ট এগিয়ে যাওয়ায় বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীরা ভেবেই নিয়েছিলেন স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেল, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হবে মেসিদের। কিন্তু হারা ম্যাচে কী ভাবে জয়ে ফেরাতে হয় সেটা ম্যাজিশিয়ান মেসি বেশ ভালো করেই জানেন, তা আবারও একবার প্রমাণ করে দিলেন।

ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত খেলায় এগিয়ে ছিল এজিপ্ট। তবে এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে হেডে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। আর 83 মিনিটে একটি দুর্দান্ত গোল করে দেশকে সমতায় ফেরালেন লিওনেল মেসি। এই গোলের ফলে বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় চলে এলেন লিও।

আর খেলার সংযুক্তি সময়ে ৯৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফার্নান্দেস। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ এজিপ্টের। অন্যদিকে ম্যাচ জিতেও কান্নায় ভেঙে পড়লেন মেসি। তার কারণ যে পরিস্থিতিতে ম্যাচটি চলে গিয়েছিল, সেখান থেকে জেতা সম্ভব এটা বোধহয় আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও ভাবতে পারেননি। অথচ স্বপ্ন সত্যি করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে আনন্দে কেঁদে ফেললেন লিও। অবশ্য এদিন ম্যাচে একাধিকবার রেফারির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এজেক্টের কোচ থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফ এবং দলের ফুটবলাররা। রেফারির সঙ্গে বসায় জড়ানোয় একাধিক ইয়েলো কার্ড দেখানো হয় এইদিনের ম্যাচে। তবে এদিন এজিপ্ট ম্যাচ হারলেও, যেভাবে লড়াই তারা করেছে তাতে মন জয় করে নিয়েছে বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের। অন্যদিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আর্জেন্টিনাকে যে নিজেদের ফুটবলের আরও অনেক উন্নত করতে হবে তা স্বীকার করে নিচ্ছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
